সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:-
দীর্ঘদিন পর বার্মিংহাম সিটি ও বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও নানামুখী হিসাব-নিকাশ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগেই একটি শক্তিশালী “সুপার ফাইভ” গঠনের সম্ভাবনা এখন নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপি ও বার্মিংহাম সিটি বিএনপিকে দীর্ঘদিন পর আবারও সাংগঠনিকভাবে গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে এই “সুপার ফাইভ” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের ধারণা, অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে উঠলে দলীয় কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরে আসবে এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনও আরও সহজ হবে।
তবে সম্ভাব্য নেতৃত্বকে ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। অনেকেই এখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলীয় অভ্যন্তরে অনেকে মনে করছেন, এই প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই নীরব আলোচনা থেকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দৌড়ে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন মহলে লবিং, গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের কথাও শোনা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপিতে সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সভাপতি সৈয়দ জমসেদ আলী, সাবেক আহ্বায়ক ও প্রধান উপদেষ্টা কাজী আংগুর মিয়া, সাবেক সহ সভাপতি আব্বাস উদ্দীন এবং সাবেক সহ সভাপতি , সাবেক সভাপতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ড যুবদল জালাল উদ্দীন আহমেদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক।
দীর্ঘ সময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় তাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
সাধারণ সম্পাদক পদে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আলোচনায় রয়েছেন বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ড স্বেচ্ছাসেবক দল আওলাদ হুসেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সভা-সমাবেশ সফল করা এবং দলের দুর্দিনে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া বিএনপি নেতা সরওয়ার আহমেদ,যুক্তরাজ্য যুবদলের সহ সভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুদাসির খান এবং বার্মিংহাম সিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এম মোস্তফা লিমনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লবিং করছেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মজনু মিয়া এবং বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বার্মিংহাম ওয়েষ্ট মিডল্যান্ড বিএনপি নেতা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়েস্ট মিডল্যান্ড স্বেচ্ছাসেবক দল ইসলাম উদ্দিন খান, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।
বার্মিংহাম সিটি বিএনপিতেও নেতৃত্বের দৌড়
বার্মিংহাম সিটি বিএনপির সভাপতি পদে সিটি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবজার হোসেনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। কর্মীবান্ধব ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় এই নেতার ভূমিকা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে প্রশংসিত ছিল বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
এছাড়া বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রফিকুর রহমান রফু এবং সাবেক সহ সভাপতি বার্মিংহাম সিটি বিএনপি পাখি মিয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপি ও সাবেক সভাপতি বার্মিংহাম সিটি যুবদল এম. গুলজার আহমেদ ফয়সাল, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপি আব্দুল কবির, ওয়েস্ট মিডল্যান্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ এবং আহ্বায়ক বার্মিংহাম সিটি স্বেচ্ছাসেবক দল বাবরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ড যুবদল লিটন আহমেদ ও বিএনপি নেতা শামীম খান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
সার্বিকভাবে বার্মিংহাম সিটি ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির রাজনীতি এখন নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় উজ্জীবিত। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পূর্বে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং কঠিন সময়ে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হবে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে “সুপার ফাইভ” গঠিত হলে দল আরও ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং যুক্তরাজ্যে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরে আসবে।