
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে পিডিবি ও পল্লীবিদুৎ সমিতির
অসহনীয় লোডশেডিং ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বন্ধের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ চলে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের জাউয়া বাজার ও চেচান এলাকায় ১০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়ে অসংখ্য বাস, সিএনজি অটোরিকশা, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন লোডশেডিং কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি ছাতকসহ সিলেট অঞ্চলে আবারও ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রথমে জাউয়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা টায়ার জ্বালিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে চেচান ও কালারুকা এলাকাতেও একই কর্মসূচি পালন করা হয়। একপর্যায়ে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাউয়া বাজার ও কালারুকা ফিডারের আওতাধীন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন চলে যাবে—তার কোনো নির্দিষ্টতা নেই।
এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম বলেন, “একদিকে তীব্র গরমের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার দীর্ঘ সময়েও আসে না।
আল আরাফাহ ইসলাম ব্যাংক পিএলসি গোবিন্দগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মুজিবুর রহমান বলেন ঘন ঘন লোডশোডিং করার কারনে ব্যাংকের কাজ এর মারাত্নক ব্যঘাত ঘটছে। ব্যাংকের লাইট চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।”
কৈতক গ্রামের বাসিন্দা হাসনাত মিয়া বলেন, “বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। কখন বিদ্যুৎ আসে আর কখন চলে যায়, তার কোনো ঠিক নেই। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”
এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে কাজ করা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দোকানপাট, অফিস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের কালারুকা ও জাউয়া বাজার ফিডারের ইনচার্জ সহকারী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিল, নষ্ট ট্রান্সফরমার পরিবর্তনের নামে অর্থ দাবি এবং বিভিন্ন কাজে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী আজিম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, “সারা দেশেই বর্তমানে বিদ্যুতের সংকট রয়েছে। গ্রিড থেকে যতটুকু সরবরাহ পাওয়া যায়, সেটিই বিতরণ করা হয়। সরবরাহে ঘাটতি থাকলে লোডশেডিং করতেই হবে।”
অবরোধের খবর পেয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েবিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাউয়া বাজার ও চেচান এলাকার অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ের মধ্যে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের কালারুকা এলাকার অবরোধও প্রত্যাহার করা হয়।
জাউয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফ কামাল বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাউয়া বাজার ও চেচান এলাকার সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এব্যাপারে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়
Leave a Reply