
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিল প্রেমিক-প্রেমিকা। বর্তমানে সেই মামলায় প্রেমিক জেলহাজতে দিন কাটালেও, প্রেমিকাকে গোপনে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে তার পরিবার।
সোমবার (৮ জুন ২৬) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাধারণ কৃষক রশিদ আলী ছেলে সাব্বির আলীর সাথে একই গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ফারুক আলীর মেয়ে খাদিজা বেগমের গত ৪ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এই সম্পর্কের জেরে গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তারা দুজনে স্বেচ্ছায় গোপনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। সাব্বিরে চাচা নছির আলী জানান, এলাকা ও আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় সাব্বির ও খাদিজাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার পথে হবিবনগর এলাকায় জগন্নাথপুর থানা পুলিশ তাদের বহনকারী সিএনজি গাড়িটির গতিরোধ করে এবং দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, খাদিজার মা সুবর্ণা বেগম বাদী হয়ে ছাব্বিরের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় একটি মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (অপহরণ) মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-০৮, তারিখ: ০৯/০৪/২০২৬ইং)।
পুলিশ তাদের আদালতে প্রেরণ করলে, ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে সে স্পষ্ট জানায়,
“ছাব্বির আলী আমার চাচাতো ভাই, তার সাথে আমার ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি স্বেচ্ছায় ছাব্বিরের সাথে গিয়েছিলাম। সে আমাকে অপহরণ বা ধর্ষণ করেনি।”
বয়স কম হওয়ার কারণে আদালত সাব্বিরকে জেলহাজতে এবং খাদিজাকে সিলেটের সেফ হোমে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে খাদিজাকে তার মায়ের জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়।
সাব্বির জগন্নাথপুর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও সে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরোদী আন্দোলনের সম্মুখ সারি ছাত্র নেতা। দীর্ঘ ২মাস ধরে সে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করছে। তার নিঃশর্তে মুক্তি দাবীতে জগন্নাথপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাকারিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত বিবৃতি দেন।
Leave a Reply