


আনোয়ার হোসেন রনিঃ
সীমান্ত আইন মেনে চলা এবং সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় গোয়াইনঘাট উপজেলা অডিটোরিয়াম ভবনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
“আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সচেতন নাগরিক” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সীমান্ত আইন, সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিক সচেতনতা বিষয়ে রচনা লিখন, চিত্রাংকন ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ, গোয়াইনঘাট ইমরান আহমেদ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, গোয়াইনঘাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন প্রতিরোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধে বিজিবির ভূমিকা এবং সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব সম্পর্কে তাদের ভাবনা সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করে। বিচারকমণ্ডলী রচনা প্রতিযোগিতায় ১৯ জন, চিত্রাংকনে ১৫ জন এবং ভিডিও কনটেন্ট বিভাগে ১১ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেন। পরে প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।
এছাড়া চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টি করে মোট ৪০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক, বিজিওএম। তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব নয়, এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও সচেতনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে সীমান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীমান্ত আইন বিষয়ে বিশদ শিক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বক্তব্য রাখেন। তারা বিজিবির এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় একই স্থানে বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেজর চৌধুরী ইমরান মাহমুদ ও ডা. সেজানা খানের তত্ত্বাবধানে সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়।
Leave a Reply