
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক থেকে:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মরা চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা থেকে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াপুঞ্জি মৌজার অন্তর্গত রহমতপুর, আলমপুর, কাজীরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
এ খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সত্যতা, নদীর পাড় কাটার চিহ্ন এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর গুরুতর ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে।
এ মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইসলাম উদ্দিন মেম্বার (৪২), জমির আলী (৩৮), খালিক মিয়া (৪০), মাহমদ হোসেন (৫০), ধন মিয়া মেম্বার (৫৬)সহ মোট ২৬ জন। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।এসব ঘটনার মুলহোতা বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশের ভারসাম্য এবং আশপাশের কৃষিজমি ও জনবসতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(৬), ১২ এবং একই আইনের ১৫(১) ধারার টেবিলের ক্রমিক নম্বর ৮ ও ১২ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, “পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করবেন।”স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে ছাতক ইউএনও মহি উদ্দিন এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন।
Leave a Reply