
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দেশে তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসাইম মিয়া বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি পূর্বে সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজলু হকের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন করেছিলেন। বর্তমানে প্রবাসে থাকা অবস্থায় সাময়িক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি টাকাগুলো সময়মতো ফেরত দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী আব্দুল হক দেশে ফিরে আসার কথা জানিয়ে অবিলম্বে তার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হোসাইম মিয়া ও তার পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করছেন। টাকা না দিলে হোসাইম মিয়া দেশে ফিরলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত টাকা পরিশোধ না করলে তার পরিবারের জায়গা-জমি দখল এবং তাদের নিজস্ব বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ফজলু হকও তার পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে হোসাইম মিয়ার মা-বাবার ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রবাসীর পরিবারের দাবি, ফজলু হক প্রতিদিন তাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং তাদের বৈধ জায়গা ব্যবহার করতে বাধা সৃষ্টি করছেন। অকারণে প্রতিনিয়ত গালিগালাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী হোসাইম মিয়া প্রবাস থেকে জানান, “আমি বর্তমান পরিস্থিতির কারণে টাকা দিতে একটু সময় চাচ্ছি। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনতে রাজি নন। উল্টো তারা প্রতিদিন আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছেন। আমি দেশে ফিরলে আমাকে ও আমার পরিবারসহ মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই বিরোধের জেরে গত প্রায় এক মাস আগে ফজলু হকের ছেলে ও মেয়ে শেরপুর গ্রামে হোসাইম মিয়ার পরিবারের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতবাড়ির টিনের বেড়া এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এই ঘটনার পর থেকে হোসাইম মিয়ার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই বিষয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই সন্ত্রাসী হুমকির সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।
Leave a Reply